যখন বাজারে গরম হাওয়া বইছে, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একটি ছাড়া কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি বলে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন। বর্ষা মৌসুমে শাকসবজির দাম বাড়ার পেছনে পরিবহন ও সময়মতো সরবরাহ না হওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যায়। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় যেই পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে স্বীকার করেছেন, বাজারে সেই পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত আছে। পাইকারি বাজারের সবচেয়ে বড় মোকাম খাতুনগঞ্জে এখন যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, তা দুই থেকে তিন মাস আগে আনা। তাহলে এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ার কারণ কী?

 কোরবানির ঈদের বাকি আছে দুই সপ্তাহের মতো। ওই সময় পেঁয়াজের চাহিদা আরও বাড়বে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাটি প্রবল। ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ায় সেখানেও দাম বেড়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের মতো দ্বিগুণ হয়নি। বাংলাদেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ী তক্কে তক্কে থাকেন কখন সুযোগ বুঝে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া যায়। কয়েক মাস ধরে চাল নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। এখন আবার পেঁয়াজকে হাতিয়ার করে ভোক্তাসাধারণের পকেট কাটা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি পণ্য বন্দরে এসে কয়েক দিন পড়ে থাকে। এতে পণ্যের দাম যেমন বেড়ে যায়, তেমনি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতেও বিলম্ব হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, সমস্যাটি থাকবে না। ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কমায় সরকার মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মিসর থেকে পেঁয়াজ আসতে আসতে ঈদুল আজহা চলে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার তা হলে পথ কী?

অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে জন্য টিসিবি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সে রকম কোনো উদ্যোগও লক্ষ করা যায়নি। এ ছাড়া নিয়মিত বাজার তদারক করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। মুক্তবাজারের নামে সবকিছু যদি তারা ব্যবসায়ীদের ওপরই ছেড়ে দেয়, তাহলে শ্বেতহস্তী টিসিবিই বা রাখা কেন?

 ঈদুল আজহার আগেই পেঁয়াজের ঝাঁজ কমান।

সুত্র : প্রথম আলো

Comments are closed.