ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে আট কোটি মানুষ

229
map of Bangladesh

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ আট কোটি মানুষই ভূমিকম্পের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের একটি বড় অংশই দেশের দুই প্রধান নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামে বসবাস করে। আর বড় আকারের ভূমিকম্প হলে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর এলাকায় দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রথম জাতীয় কনভেনশনের মূল প্রবন্ধে এসব কথা জানান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এটি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। তা না হলে ভূমিকম্প ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। বুয়েটের এই সাবেক অধ্যাপক বলেন, শুধু বিল্ডিং কোড মেনে ভবন করলেই হবে না, যেই মাটিতে ভবন নির্মাণ করা হবে সেই মাটিও সহনীয় হতে হবে। কারণ অনেকেই জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণ করে। এটা ঠিক নয়। কারণ ওই জলাশয়ের উপর ভবন নির্মাণ করলে ভূমিকম্প হলে এটি ঝুঁকির মধ্যে থেকে যায়। ২০১০ সালের হাইতি এবং চিলির ভূমিকম্পের উদাহরণ দিয়ে জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে হাইতিতে সাত দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প হয়। তাতে তিন লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিলিতে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫৬২ জন মানুষ প্রাণ হারায়। পরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণেই চিলিতে মানুষের মৃত্যু অনেক কম হয়। কারণ ১৯৬০ সালে চিলিতে ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই থেকে তারা মাস্টার প্ল্যান করে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেছে। এ কারণে হাইতির চেয়ে অনেকগুণ কম মানুষ মারা গেছে। এভাবে আমরাও যদি প্রস্তুতি না নেই তাহলে ঝুঁকি থেকে যাবে। জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষায় আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৭০ সালের ভোলা বন্যায় আমাদের পাঁচ লাখ মানুষ মারা গেছে। ১৯৮৫ সালের উড়িরচর বন্যায় ১১ হাজার মানুষ মারা গেছে। ১৯৯১ সালের বন্যায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। এরপর আমরা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে মাস্টার প্ল্যান করি। এর ফলে ২০০৭ সালে সিডরে আমাদের মানুষ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসে। সিডরের এই অভিজ্ঞতার পর ২০০৯ সালের আরেক ঘূর্ণিঝড় আইলায় ৪০০ মানুষ মারা গেছে জানিয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, এভাবে আমাদের অগ্রগতি আছে। তবে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রথম জাতীয় কনভেনশনের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ধীরেন্দ্রনাথ শম্ভু, সদস্য শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান বদি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের আন্তরিকতায় দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি আরো দৃশ্যমান হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্যোগে সকলকে সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগের ধরন ও ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব দুর্যোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার টেকসই উপায় বের করতে হবে।