নেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতোই ডেইড্রা আবোউদও সামাজিক মিডিয়ায় নোংরা অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। এর অত্যতম কারণ তিনি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ৪৫ বছর বয়সী অ্যারিজোনার এই মুসলিম আইনজীবী সম্প্রতি কিছু নিকৃষ্ট অশ্লীলতার মুখোমুখি হয়েছেন।

জেসন পার নামে একজন আল্লাহকে ইঙ্গিত করে তার মন্তব্যে বলেন, ‘আপনার প্রথম প্রেম হল শয়তানের সঙ্গে।’ অন্য আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের সরকারে মুসলমানদের কোন জায়গা নেই।’ এছাড়াও আরো কিছু মন্তব্য করা হয়েছে; যা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হল না।

রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেকের সঙ্গে লড়তে যাওয়া আবোউদ বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে এ ধরনের অশ্লীন বক্তব্য আমেরিকাতে এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। সমাজ হিসেবে আমরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি না এবং কেউ প্রতিবাদ করে বলছে না যে, এধরনের বক্তব্য আমাদের সমাজকে প্রতিফলন করে না।’

আবোদ ১৯৯৮ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। এর পর থেকেই তিনি হিজাব পরিধান করেন।মুসলিম হওয়ার আগে তিনি ছিলেন দক্ষিণপন্থী ব্যাপটিস্ট।

তিনি আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিলের অ্যারিজোনা অধ্যায়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের পরিচালক ছিলেন।

২০১২ সালে তিনি অ্যারিজোনা সামিট ল’ স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। রাজনীতিতে স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্বপর্যন্ত অভিবাসন এবং এস্টেট আইন বিষয়ে অনুশীলন করছেন।

নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে আবোউদকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। সিনেটর ফ্লেকের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে তাকে অবশ্যই পরবর্তী গ্রীষ্মে সাবেক সেনাপ্রধান ক্রিস রাসেলকে পরাজিত করতে হবে। উপরন্তু, গত ২০ বছর যাবৎ অ্যারিজোনার সিনেটের কোনো আসনেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেননি।

আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক সামারা ক্লার বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, অ্যারিজোনার ভোটারদের একটি বড় সংখ্যা এখনো রিপাবলিকানদের পক্ষে রয়েছে। এখানে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকান ভোটার অনেক বেশি। তাই সহজেই বলা যায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি আরো কঠিন হতে যাচ্ছে।’

কিন্তু আবোউদ তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি সিনেটর ফ্লেকের কাছ থেকে এক বিস্ময়কর সমর্থন পেয়েছেন। মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় ফ্লেক বলেন, ‘লেগে থাকুন। দুঃখিত আপনাকে এটি সহ্য করতে হবে। অ্যারিজোনাজুড়ে অনেক বিচিত্র মানুষ রয়েছে। আপনি তাদের দেখতে পাবেন।’

Comments are closed.